কিছু মানুষ হারিয়ে যায় অন্ধকারে, আবার কিছু মানুষ নিজেই হয় আলো। কিন্তু কেউ যদি নিজেই অন্ধকার থেকে উঠে এসে অন্যদের পথ দেখায়—তখন তার যাত্রাটা হয়ে যায় সত্যিকারের অনুপ্রেরণা।
গল্পের নাম:আলোকছায়া।
,সন্ধ্যার অন্ধকারে ঢাকার এক গলির মোড়ে বসে আছে সালমান। মুখটা গম্ভীর, চোখে বিষণ্নতা। চল্লিশ টাকা জোগাড় করতে পারেনি আজ, সারাদিনে দুটো বিস্কুট আর এক গ্লাস পানি খেয়ে আছে। কিন্তু তার গল্প শুরু হয়েছিল আরও বহু বছর আগে—যখন সে ছিল মাত্র ১০ বছরের ছেলে।
সালমানের বাবা ছিলেন একজন সৎ ব্যবসায়ী। অন্যায়ে প্রতিবাদ করতেন। আর সেই কারণেই একদিন পাড়ার সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন রাস্তার মাঝখানে। সালমান সব দেখেছিল। তার মা চুপ করে গিয়েছিলেন সেই রাতেই। কয়েক মাস পর বিষ খেয়ে মারা যান তিনিও। সালমান তখন পথের সন্তান।
অনাথ আশ্রমে উঠেছিল বটে, কিন্তু সেখানে খাবারের জন্য লাথি খেতে হয়েছে, বইয়ের বদলে কাঁথা সেলাই করতে হয়েছে। ওখান থেকেই কেমন করে যেন সরে গিয়ে জড়িয়ে পড়েছিল এক দলে—চুরি, ছিনতাই, মাদক পাচারের ছোট ছোট দায়িত্বে।
একদিন ভোরবেলা একটা গলিতে সালমান পেছন থেকে এক মহিলার ব্যাগ টান দেয়। মহিলা পড়ে যায়। সালমান দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। চোখ খুলে দেখে, মহিলা তার ওপর দাঁড়িয়ে—কিন্তু রাগে নয়, দয়ার চোখে তাকিয়ে আছে। মহিলা বলেন,
“এই পথটা শেষ পর্যন্ত শুধু কষ্ট দেয়। চেষ্টা করে দেখো বদলানো যায় কিনা।”
মহিলার নাম ছিল রাফিয়া। তিনি একটি স্কুলে পড়ান, আবার সময় পেলেই ফুটপাথে বসে গরিব ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেন। সালমান প্রথমে পাত্তা দেয়নি। পরের দিনও যায় চুরি করতে। কিন্তু প্রতিবারই তার সামনে পড়ে যায় সেই মুখ—রাফিয়া ম্যামের মুখ।
একদিন হঠাৎই গলির পাশে দেখে রাফিয়া বসে আছে, তিনজন ছোট বাচ্চাকে পড়াচ্ছে। খাবার দিচ্ছে। সালমান চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখে। একটা বাচ্চা বলে, “আপু, আমার মা নেই।”
রাফিয়া তাকে জড়িয়ে ধরে বলে, “আমি তো আছি না?”
সেই দৃশ্যটা সালমানের বুক কাঁপিয়ে দেয়।
এরপর সালমান আর চুরি করেনি। প্রথম দিন নিজেই গিয়ে রাফিয়াকে বলেছিল,
“আপনি কি আমাকে শেখাবেন কিভাবে বদলাতে হয়?”
রাফিয়া অবাক হয়ে হেসে বলেছিল,
“তুমি চাইলে সবই সম্ভব।”
সালমান আস্তে আস্তে বদলাতে শুরু করে। প্রথমে বই ধরতে কষ্ট হয়েছে, পেছনের বন্ধুরা কটাক্ষ করেছে, হুমকিও দিয়েছে। কিন্তু রাফিয়া তাকে সাপোর্ট করেছে।
ধীরে ধীরে সালমান শিশুদের পড়াতে শুরু করে, রাস্তায় থাকা ছেলেমেয়েদের নিয়ে ছোট একটা ক্লাস চালায়, আশেপাশের দোকানদাররাও সাহায্য করে।
তবে পুরনো সঙ্গীরা চুপ ছিল না। একদিন রাতে তারা রাফিয়ার ওপর হামলা চালায়—সালমানকে শাস্তি দিতে। রাফিয়া আহত হন, হাসপাতালে যেতে হয়।
সেই রাতে সালমান জীবনে প্রথম কান্না করে। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, এখন থথেকে সে শুধু নিজেক নয়, আশেপাশের সবাইকে আলোয় ফেরাবে।
বছর তিনেক পর, সালমান এখন ছোট একটা এনজিও চালায়। ফুটপাথে, রেলস্টেশনে থাকা শিশুদের জন্য শিক্ষা, খাবার, কাজ শেখার সুযোগ দেয়। সে নিজে পড়াশোনা শেষ করে সমাজকর্মী হয়েছে।
রাফিয়া এখনো তার পাশে আছেন। তারা বিয়ে করেনি, কিন্তু সম্পর্কটা বিয়ের থেকেও গভীর—একটা মায়া,
একটা সৎ ভালোবাসা, একে অন্যকে জয়ী করার চেষ্টা।
গল্প থেকে কি শিখলাম ।
,ভুল করলে জীবন শেষ হয় না।
ভালোবাসা আর সঠিক সময়ে একজন মানুষের সহানুভূতি বদলে দিতে পারে জীবন।
অন্ধকারে থাকা মানুষটাও একদিন আলো হতে পারে—যদি কেউ একটা হাত বাড়িয়ে দেয়।
আপনার মতামত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
📝 ,এই গল্পটি যদি তোমার ভালো লেগে থাকে, মন্তব্য করতে ভুল না করো। আর শেয়ার করো যেন কেউ হয়তো আলো পায় তোমার মাধ্যমে।
এরকম আরো ভালো গল্প পেতে আমাদের ব্লগটি👤follow করুন